Posted in Bengali, short shory

স্বপ্নপূরণ

চিরন্তনা সেনগুপ্ত সরকার

জুন  , ১৯৯০

বারান্দায় সাদা ফ্রক পরে রান্না বাটি  নিয়ে পা ছড়িয়ে বসে আছে ছোট্ট কোয়েল।  তার এখন গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। বাবা অফিসে , মা সারাদিন রান্না করে, খাওয়া দাওয়ার পালা  শেষ করে পাশের ঘরে ভাইকে নিয়ে ঘুমোচ্ছে। তরীটা এলে মজা হতো, কি জানি মেয়েটা কোথায় ? সারাদিন শাড়াশব্দ পায়নি তার। তরী কোয়েলের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু, ওরা পাশাপাশি বাড়িতে থাকে, একই স্কুলে পরে, একসাথে স্কুল যায়, একসাথে ফেরে। কোয়েলের এখন বছর দশেক বয়েস, এই দশ বছরের জীবনে একটা দিনও তার তরীকে ছাড়া কাটেনি। দুপুরে রান্না বাটি খেলার প্ল্যানটার কথা জানতো তরী, তবু কেন দেরি করছে সে ? আর ধর্য্য ধরতে না পেরে পাঁচিলের কাছে গিয়ে তরীকে ডাক দেয় কোয়েল। জানালার কাছেই গল্পের বই নিয়ে বসে ছিল তরী, বেরিয়ে এলো।

“কি রে, তোর জন্যে কখন থেকে বসে আছি, খেলতে আসবি না ?”, উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞাসা করলো কোয়েল।

 

“রান্না বাটি  খেলতে ইচ্ছে করছিলনা , তাই আসিনি।” তরীর জবাবে গাল ফুলে উঠলো কোয়েলের। 

 

প্রিয় বান্ধবী রেগে গিয়েছে দেখে ভারী বিপদে পড়লো তরী। অনেকক্ষন ভেবে বললো, “চল,  টিচার-টিচার খেলি।”

 

“আমার টিচার-টিচার খেলতে ইচ্ছে করছে না ” বলে রাগ করে মায়ের পাশে শুয়ে ঘুমোতে চলে গেল কোয়েল। 

 

তরীর এই হয়েছে এক বিপদ, যতদিন যাচ্ছে তত যেন তার কোয়েলের এই খেলাগুলোকে নিছক ছেলেমানুষি মনে হচ্ছে, রান্নাবাটি আবার একটা খেলা হলো ? কিন্তু অগত্যা প্রিয় বান্ধবীর মন রাখতে সেইদিন সন্ধেবেলা একঘন্টা রান্নাবান্না করলো তারা, গাদা ফুলের পাতা দিয়ে সবজি রাঁধলো, কৌটোর মুখ দিয়ে গোল করে পাতা কেটে লুচি বানালো, আর লাল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে চাটনি। বাড়ির বড়রা খুব বাহবা দিয়ে মিছিমিছি খেলো সেটা। পরের দিন দুপুরে ‘টিচার টিচার’ খেলা হলো তরীর মন রাখতে। এই ভাবে খুব শিশু বয়েস থেকেই নিজেদের পার্থক্যগুলোকে দূরে সরিয়ে রেখে একসাথে মিলে  মিশে বড়  হতে লাগলো দুই বান্ধবী।

 
 ফেব্রূয়ারি, ২০০০
 এইরকম  বহু গ্রীষ্মের দুপুর খেলতে খেলতে কেটে গেছে তাদের । কোয়েল আর তরী এখন তারুণ্যে পা দিয়েছে। কলকাতার একটি নামি কলেজের  ছাত্রী তারা এখন। শীতের আমেজ কাটিয়ে কলকাতায় তখন গরম পড়তে শুরু করেছে সবে, কলেজ থেকে বেরিয়ে সামনের দোকানটিতে দুটো ঠান্ডা কোকাকোলার বোতল হাতে দাঁড়িয়ে দুজন। প্ল্যান হচ্ছে সামনের রবিবারের সিনেমা দেখার। তরীর অনেকদিন ধরে ইচ্ছে “পারমিতার একদিন ” দেখতে যাওয়ার, অন্যদিকে কোয়েলের ইচ্ছে সদ্য রিলিজ হওয়া হিন্দি সিনেমা “পুকার” দেখতে যাওয়ার। এত কঠিন সিনেমা ভালো লাগে না কোয়েলের, তার মনে হয় সিনেমা দেখা হয় বিনোদনের জন্যে, সিনেমা দেখে মন ভারাক্রান্ত করার কোনো মানে সে খুঁজে পায়না।। অন্যদিকে তরীর মত উল্টো, একটু আর্ট ফিল্ম গোছের সিনেমা না দেখলে তার ঠিক মন ভরে  না , মনে হয় সময়, টাকা দুটোই নষ্ট হলো।  আবার সেই টানাপোড়েন। অনেক তর্কাতর্কির পর ঠিক হলো পর পর দুটো সপ্তাহে দুটো সিনেমাই দেখা হবে। আবার আপোষ করে নিজেদের পার্থক্যগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখলো দুই বান্ধবী। ‘
 

কলেজের দৈনন্দিন জীবনেও তাদের পার্থক্যগুলি বেশ চোখে পড়তে শুরু করেছিল। তরী অত্যন্ত জনপ্রিয়, সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, মক পার্লামেন্ট, সব কিছুতে আগে। বই পড়া তার হবি, ক্লাসের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী সে, সব প্রফেসরের প্রিয় । কোয়েলকে কলেজের বেশিরভাগ ছাত্র ছাত্রী চিনতোই না, পড়াশুনায় নিতান্ত খারাপ সে নয়, কিন্তু সে বিষয়ে কোনো উচ্চাকাঙ্খা ও তার নেই। ভালো গান গায়ে, রান্নার হাত খুব সুন্দর, সেলাই করা তার হবি। নিতান্তই ঘরোয়া মেয়ে সে। তরীর মতো কলেজ দাপিয়ে বেড়ানোর ক্ষমতা তার নেই। তরী অবশ্য সব সময় তাকে উৎসাহ দিত গানের কম্পেটিশনে  বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগদান করতে। তার ঘরকুনো বন্ধুর এই স্বভাবগুলো একদম পছন্দ করত না সে। কোয়েল অন্যদিকে মনে করতো তরীর মেয়ে হিসাবে আরেকটু ঘরোয়া হওয়া উচিত। দুই বান্ধবী মাঝে মাঝে দুজন দুজনকে জ্ঞান ও দিতো – একে অপরকে নিজের ধাঁচে তৈরী করার চেষ্টা করতো। কিন্তু এত পার্থক্য সত্ত্বেও এতো বছরের এই সম্পর্ক্যে কিন্তু বিন্দুমাত্র চিড় ধরে নি।  তাদের দেখে অনেকেই ঈর্ষা করতো, কারণ এরকম বন্ধু ভাগ্য সবার হয়না। 

 

ডিসেম্বর, ২০০৩

 কলেজ শেষ করে তরী এখন মাস্টার্স পড়ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।  অনেক স্বপ্ন তার, আরো পড়াশোনা করার, একদিন কলেজ বা কোনো ইউনিভার্সিটির শিক্ষক হওয়ার। কোয়েল অবশ্য কলেজ পাশ করে আর পড়াশোনা করেনি। তরীর অনেক বোঝানো সত্ত্বেও কোনো ফল হয়নি। বান্ধবীর এই সিদ্ধান্তটা একদম মেনে নিতে পারেনি সে। কিন্তু কোয়েল যখন গান নিয়ে চর্চা শুরু করে, মনে মনে একটু শান্তি পায়ে তরী।  সকলকেই পড়াশোনার দিক দিয়ে বড়  হতে হবে এমনটা সে মানে না, কোয়েল সত্যিই ভালো গান গায়ে, ঠিক মতো চর্চা করলে খুব বড় শিল্পী হতে পারে একদিন।

কোয়েলের অবশ্য সেরকম কোনো উচ্চাকাঙ্খা ছিল না।  সে গান শিখছিলো তার ভালো লাগে বলে। নিতান্ত ঘরোয়া এই মেয়েটির স্বপ্ন আলাদা, সে স্বপ্ন দেখে একটি সুখের সংসার হবে, সে স্বপ্ন দেখে একটি সুন্দর বাড়ির যেটাকে সে নিজের হাতে করে গোছাবে, একটি সুন্দর বাগান যাতে নিজের হাতে ফুল লাগবে সে। তরী তার এই স্বপ্নগুলো বুঝতেই পারেনা। ঠিক যেমন তরীর উচ্চাকাংখাগুলো সে বুঝতে পারেনা। অনেক বুঝিয়েছে সে তরীকে যে স্বপ্ন দেখা ভালো, কিন্তু একটি মেয়ের তার পরিবার, সংসারের প্রতি অনেক দায়িত্ব থাকে। স্বপ্নের পিছনে ধেয়ে বেড়ালে ওই দায়িত্বগুলোকে ঠিক মতো পালন করতে পারবে না সে।  কিন্তু তরীর কিছুই বোধগম্য হয়নি। 

 

তাই ডিসেম্বরের এক বিকেলে যখন তরীর ঘরে খবরটি দিতে ঢোকে কোয়েল, সে আগের থেকেই জানতো তার বান্ধবীর প্রতিক্রিয়া কি হবে। বিছানায়ে একটি বই নিয়ে উপর হয়ে পড়ছিলো তরী, কোয়েলের পায়ের শব্দে মুখ তুলে তাকালো। “আরে তুই, আমি ভাবছিলাম একটু আগেই সন্ধে বেলা তোর ওখানে যাবো– “

 

তরীর কথা মাঝপথে থামিয়েই তার বিয়ের খবরটা দেয়  তাকে কোয়েল। জানুয়ারী তে বিয়ে, হটাৎ ঠিক হয়ে গেল সব, পার্থ আর তার  পরিবার তাকে দেখতে এসেছিলো একসপ্তাহ  আগে, আজ ফোনে জানালো মেয়ে পছন্দ হয়েছে। বনেদি পরিবারের ছেলে, তারা ঘরোয়া বৌ চায়, কিন্তু খুবই উচ্চশিক্ষিত পরিবার তাদের। পার্থকেও বেশ পছন্দ হয়েছে কোয়েলের। এই বিষয়ে তরীর অনুমোদন সে পাবে না জেনেই তরীকে আগের থেকে  কিছু জানায়নি সে । 

 

আকাশ থেকে পড়লো তরী। আজ সে এতটাই পর যে সব কিছু ঠিক ঠাক হওয়ার পর বাইরের লোকের মতো জানতে পারলো সে। সে আগে জানলে অবশ্যই আপত্তি করতো, কোয়েলের গান শেখা  এখনো অনেক বাকি, সবে তেইশে পা দিয়েছে সে ! আর একজন অচেনা অজানা লোক, যার সাথে তার একদিন আলাদা করে কথা ও হয়নি, তাকে কি করে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল কোয়েল ? কিন্তু তার মতামতের যে বিশেষ মর্যাদা সে পাবে না তা এতক্ষনে বুঝে গেছিলো সে।  নিজের অভিমান, হতাশা চেপে রেখে হাসি মুখে আনুষ্ঠানিক কংগ্রাচুলেশন্সটা জানিয়ে দিলো ।  খালি কোয়েল যখন বেরিয়ে যাচ্ছিলো ঘর থেকে, তখন নিজেকে আর আটকাতে পারলো না, পিছন থেকে ডেকে বললো ” গানটা ছাড়িস না, আমার একটাই রিকোয়েস্ট ” । সকলের অলক্ষে দীর্ঘ দিনের এই বন্ধুত্বে কোথাও একটা চিড় ধরতে শুরু করলো।

 

অক্টোবর, ২০১৬

 সেই বিকেলটির পর প্রায় তেরো  বছর চলে গেছে। তরী এখন একজন ব্যস্ত মানুষ, তার ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্টের হেড সে, ক্লাস, সেমিনার, অফিস পলিটিক্স, স্টুডেন্টস পলিটিক্স সামলাতে তার দিন যায়।  বিয়ে সেও করেছে, কিন্তু তার নিজের পছন্দ করা মানুষটিকে। অর্ঘ্য তারই সহকর্মী ছিল, এখন জীবন সঙ্গী। তার ছেলের এখন বছর সাতেক  বয়েস, কলকাতার একটা নামি স্কুলের ছাত্র। ছেলের অবশ্য খুব অভিমান তার উপর।  মায়ের সময় নেই তার জন্যে। প্যারেন্ট টিচার মিটিঙে, তার স্পোর্টস ডে তে , তার পরীক্ষার দিনগুলোতে মা সাথে যেতে পারেনা।  সকালে উঠে ভালো মন্দ টিফিন করে দিতে পারেনা অন্যান্য বন্ধুদের মায়েদের মতন।  তরীর বিশ্বাস আরেকটু বড় হলে নিশ্চই বুঝতে পারবে সে তার মায়ের ব্যস্ততাটা । কিন্তু মাঝে মাঝে রাতের বেলা যখন ছেলে ঘুমিয়ে পরে, হাঁ করে তাকিয়ে থাকে তরী তার মুখের দিকে, দেখতে দেখতে কত বড়  হয়ে গেল, তার সামনেই অথচ যেন তার অলক্ষে। অর্ঘ্য বোঝে স্ত্রীর কাজের চাপটাকে, একই সাথে কাজ করে বলেই হয়তো।  কিন্তু তবু মাঝে মধ্যে বলে ফেলে যে তরী যদি আরেকটু সময় দিতো সংসারের দিকে হয়তো আরেকটু গোছানো সংসার হতো তার, অন্যান্য সহকর্মীদের মতো। মাঝে মধ্যে মনে হতো তরীর সব ছেড়ে দিয়ে শুধু বাড়ির দিকে মন দেবে, হাপিয়ে উঠছিলো  সে দুদিক সামলাতে গিয়ে।
 

দম ফেলার অবকাশ অবশ্য ছিল না কোয়েলের ও।  সকাল থেকে উঠে একান্নবর্তী পরিবারের সব কাজ তাকে প্রায়  একা হাতে সামলাতে হয় । তার ছেলেও এবছর এগারো  তে পা দিলো, তার স্কুল, টিউশন, ক্রিকেট কোচিং, পার্থর অফিসের টিফিন এগুলো তো সাথে আছেই। সারাদিন বাড়িতে থাকতে থাকতে দম  বন্ধ লাগে তার আজকাল। ছেলে বড় হয়েছে, তার সময় নেই মায়ের সাথে কথা বলার, তার নিজের জগতে সে ব্যস্ত। বরের কাজের প্রচুর চাপ, কোনোদিন একটু ছুটি নিতে বললে সে বলে,”সারাদিন বাড়িতে থাকো তো, বুঝবে না অফিসের কাজের চাপ”। ছেলের বন্ধুর মায়েরা সবাই কর্মরতা, তারাও ভাবে কোয়েলের সারাদিন কোনো কাজ নেই।  ছেলে আজকাল মাঝে মাঝেই বলে, “আমার বন্ধুদের মায়েদের দেখেছো, কত স্মার্ট, তোমার মতো বাড়িতে বসে থাকে না তারা” । আজকাল তো প্যারেন্ট টিচার মিটিং, স্পোর্টস সবেতে বাবাকে নিয়ে টানাটানি করে ছেলে। বন্ধুদের মর্ডার্ন মায়েদের সামনে নিজের মা কে নিয়ে যেতে বোধহয় তার লজ্জা করে। গানটা আর শেখা হয়নি কোয়েলের। এখন ইচ্ছে করে শিখতে, কিন্তু বরের উপর আরেকটা আর্থিক বোঝা চাপাতে তার ইচ্ছে করেনা, তাই আর কিছু বলে না তাকে। এমনিতেও অনেক চাপ পার্থর উপর। মাঝে মধ্যে যখন সংসারের এই বদ্ধতার মধ্যে থেকে হাপিয়ে ওঠে, তখন  মনে হয় সেই পুরোনো জীবনে ফিরে যেতে পারলে কি ভালোটাই না হতো ।

 

এই তেরো বছরে একেবারেই শিথিল হয়ে গাছে তরী  আর কোয়েলের সম্পর্ক।  প্রথম প্রথম চিঠি লেখা লিখি করেছে অনেকদিন। আস্তে আস্তে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তারা। সামনে পুজো।কোয়েলের বাপের বাড়ির সবার জন্যে জামা কাপড় কেনার টাকা দিয়ে গিয়েছিলো পার্থ তার হাথে। বাবা, ছেলে কারোর সাথে যাওয়ার সময় নেই বলে একফাঁকে কোয়েল নিজেই চলে গেল সাউথ সিটি । কেনা কাটি করে ড্রাইভারকে ফোন করতে যাবে তখনি যেন মনে হলো ভীড়ের মধ্যে একটা খুব চেনা মুখ দেখতে পেল সে।  বিদেশ থেকে আসা  দুই ভিসিটিং প্রফেসরদের সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে লাঞ্চ করে বেরোচ্ছে তরী। এত বছর পর ও কত ইয়ং লাগছে তাকে,  হালফ্যাশনের একটি সালোয়ার কামিজ পরে  কি স্মার্ট দেখাচ্ছে, চোখ ভোরে দেখতে লাগলো তাকে কোয়েল। হটাৎ পিছন ফিরে তাকে দেখতে পেয়ে থমকে গেল তরী ও। সুন্দর একটি লাল-সাদা  ঢাকাই আর  লাল টিপ্ পড়া কোয়েলকে দেখে ঠিক একটি লক্ষী প্রতিমার কথা মনে পড়লো তার। 

 

“কেমন আছিস ?” জিজ্ঞাসা করে উঠলো কোয়েল। “খুব ভালো, আর তুই?” উত্তর দিলো তরী।  ব্যস্ত শপিং মলের মধ্যে বিধিবৎ দু চারটে কথা বললো তারা। তরীর সাথে গেস্ট আছে, সময় তার নেই, যেমন কখনোই থাকে না। সময় অবশ্য নেই কোয়েলের ও।  বাড়ি ফিরতে হবে, ছেলে বর  আসার আগে, তাদের জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। দুজন দুজনকে দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। দুজনের মনের মধ্যেই  জেগে উঠলো একই  প্রশ্ন, “তাহলে কি ওর  দৃষ্টিভঙ্গিটাই ঠিক ছিল। ওর মতো জীবন যদি আমার হতো ? এর চেয়ে নিশ্চই অনেক বেশি সুখী হতাম আমি ?” । ঈর্ষান্বিত দৃষ্টিতে দেখলো তারা একে ওপর কে। এতো কিছু ভাবতে ভাবতে দুজন খেয়ালই করলো না যে ছোটবেলার বান্ধবীটির ফোন নম্বর, ঠিকানা কিছুই নেওয়া হয়নি । একই পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে থাকা পাশাপাশি দুটো গাড়িতে উঠে বসলো তারা। একই পথ দিয়ে শপিং মল থেকে বেরিয়ে দুদিকে চলে গেল দুটি গাড়ি, যে যার গন্তব্যের দিকে, যে যার বেছে নেওয়া  পথ দিয়ে।

Advertisements

2 thoughts on “স্বপ্নপূরণ

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s