Posted in English

Taare zameen par….. (When no other title seems appropriate)

When I woke up today to a gloomy, damp day, little did I expect the day would light up in such an unexpected way. No! The weather had nothing to do with this…it was a bunch of twenty odd kids, chirpy, naughty and full of life. These underprivileged kids, either orphans or from families who are not capable of taking care of them, have found a home in this two storied orphanage in Salt Lake, Kolkata. As I walked through the large black gates with a childhood friend who loves teaching and spending time with them, I noticed a pair of curious eyes scrutinising me in details. Upon realising that I had noticed her, she ran upstairs.

20170723_212159.jpg

Immensely unpopular among kids, I am kind of used to scaring kids away for some unknown reason! What I however did not realise was that she was just the messenger! Within minutes, a battalion of tiny tots stormed down the stairway, as little hands held on to my arms and pulled me upstairs to their dormitories. They didn’t need pleasantries, they didn’t need introductions…..they knew how to make friends without caring for social norms. In the huge room with blue walls, a small TV airing their favourite cartoon and a number of mattress-less beds, the little butterflies fluttered around in full glory. They flocked around us, showing us their drawings, their badminton rackets, their tiny new dresses, as if I was an old acquaintance, their very own ‘Didi’! They staged Dance performances for us, posed for selfies and even discussed fashion with us (Little women, we might call them)! Eventually, it was time for their lunch and for us to return to the posh world of air-conditioned restaurants and malls. I had come to visit them empty handed, I returned with a handful of chocolates and candies.

20170723_212119.jpg
What intrigued me was that these kids didn’t think twice before giving me their precious chocolates or before accepting me as one of their own. Their invitations to visit them again was filled with anticipation and hope. I was forced to question myself, what values are we imparting to kids from our so-called “class”? Clearly, these are values which cannot be imparted by elite schooling! But on second thoughts, children learn from elders! How many children grow up seeing their parents share their earnings and savings with those who lack the means for a healthy, stable life? God knows how many such angels are out there, who do not even have a shelter over their heads or two square meals a day. Atleast these kids have found a home; have found friends and teachers like my childhood friend! I know that my words will barely reach a few through common social networking sites. Neither do I want to be preachy. But can we not, each year, put aside a part of our savings for these little ones? Can we not skip that one lunch at a posh restaurant or that one unwanted dress we desire but do not need? Maybe next time we buy that costly gift for our kids and fill their already overstuffed rooms with fancy toys, which will remain untouched by the next year, can we not take a lesson from these kids and gift our children the undiluted joy that sharing brings, by doing so ourselves? Not out of pity, not for philanthropic fame, but simply for the bliss that this small little gesture brings!

 

Posted in Bengali, short shory

আমি শ্রীজিতা

কলকাতার এক বিশিষ্ট মহিলা কলেজের প্রেক্ষাগৃহ।  শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এই বিশাল কক্ষটিতে আজ জমায়েত হয়েছে কলেজের সব ছাত্রী। মাইক  হাতে কলেজের অধক্ষ্যা ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বলছেন-

“আজ আমাদের বিশেষ অতিথি এই কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও পরিচালিকা শ্রীজিতা মিত্র। তার পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্রটি দেশের এবং বিদেশের নানান সমালোচকদের দ্বারা খুব প্রশংসিত হয়েছে এবং সম্মানিত কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তার স্ক্রীনিংও হয়েছে। শ্রীজিতার এই সাফল্যে গর্বিত আমরা সকলেই। তাই আজ কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে ছাত্রীদের কিছু বলে অনুপ্রেণীত করার জন্যে। আমি এবার মঞ্চে ডেকে নিতে চাই আমাদের সকলের প্রিয় শ্রীজিতা মিত্রকে। “

করতালিতে ফেটে পড়লো সভাঘরটি। বিনীত ভাবে জোড়হাতে স্টেজ উঠে এলেন এক অপুরূপ সুন্দরী মধ্যবয়স্কা মহিলা। পরনে একটি সাদা খোলের উপর কাঁথা স্টিচের রুচিসম্পন্ন শাড়ি ও খোঁপায় দুটি সাদা গোলাপফুল ছাড়া আর কোনো সাজের আতিশয্য নেই।  কেউ ভাবতেই পারবে না ইনি এত বড় একজন অভিনেত্রী। মাইক  হাতে তুলে গলা পরিস্কার করে শুরু করলেন তার বক্তব্য–

“নমস্কার।  আমি শ্রীজিতা।  আমার কাজের সাথে হয়তো আপনারা অনেকেই পরিচিত। তাই সেইসব নিয়ে আজ আর কথা বলবো না।  কিন্তু এই কলেজের ছাত্রীরা যারা আজ জমায়েত হয়েছে আমার কথা শুনতে, তাদের আজকে আমি শোনাবো একটি গল্প। আমার জীবনের গল্প। প্রায় বছর কুড়ি আগে আমিও ছিলাম তোমাদেরই মধ্যে একজন। এই প্রেক্ষাগৃহে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে শুনতাম কত বিশিষ্ট প্রাক্তন ছাত্রীদের ভাষণ। দুচোখে ছিল কত স্বপ্ন, কত ইচ্ছে। ঠিক তোমাদেরই মতন।

ছোটথেকেই অভিনয়ের শখ ছিল।  স্কুল কলেজে অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। তারপর সুযোগ পেলাম একটি নামী দলের সাথে স্টেজে নাটক করার। সেই থেকে টেলিভিশনে সিরিয়াল করার সুযোগ পেলাম। নায়িকার ভূমিকা। সেইসব এখন স্বপ্নের মতো মনে হয়।  তখন আমার প্রচুর অনুরাগী। রাস্তায় বেরোলেই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো সবাই একটি অটোগ্রাফের জন্যে।  শুটিং, পার্টিস, বিদেশ সফর, তারপর কিছু সিনেমায় পার্ট করার সুযোগ….আমি যেন একটি স্বপ্নপুরীতে বাস করছিলাম।

কিন্তু বুঝতে পারিনি যে এই “সেলুলয়েডের ” জগৎটা  কত ঠুনকো, কত সংকীর্ণ। হটাৎ লক্ষ্য করলাম আমার ধীরে ধীরে একটু একটু করে ওজন বাড়তে শুরু করলো। প্রথমে ভাবলাম খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম।  খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করলাম, ব্যামের সময় বাড়ালাম, রোজ সাঁতার কাটা শুরু করলাম। তার পরও লক্ষ্য করলাম কিছুতেই নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছি না।  এদিকে আমার ডিরেক্টর/প্রোডিউসারদের মাথায় হাত।  নায়িকা মোটা হলে নাকি সিনেমা চলবে না। কিছুটা বাধ্য হয়েই ডাক্তার দেখলাম। জানতে পারলাম আমার hypothyroidism আছে।  ডাক্তারের কথা মতো চলতে শুরু করলাম কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হলো না।

ফলস্বরূপ আমাকে সিরিয়াল থেকে বাদ দিয়ে দেয়া হলো।  আস্তে আস্তে সিনেমার অফার পাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।  আমি প্রচন্ড ভাবে বিষন্ন হয়ে পড়তে শুরু করলাম ক্রমাগত।  প্রতিটা ইন্টারভিউতে একই প্রশ্ন করা হলো আমাকে। কাগজে আমার চেহারা নিয়ে রম্য রচনা বেরোতে লাগলো। আমি চিৎকার করে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে এটি একটি অসুখ। আমি অসুস্থ। হাসির খোরাক নই। কোনো লাভ হলো না। বাড়িতে ভুয়ো চিঠি আসতে লাগলো, বাংলা চলচিত্রের সবচেয়ে কুৎসিত অভিনেত্রী নাকি আমি।  যারা এতদিন আমার একটি অটোগ্রাফের জন্যে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো, তারা নিমেষে ভুলে গেল আমাকে। এক মুহূর্তে বুঝিয়ে দিলো, আমার চেহারাটাই সব ছিল,  প্রতিভার কোনো দাম নেই।

Stardom জিনিসটাই বড়ো ছলনাময়ী। আজ আছে কাল নেই। এক পলকের মধ্যে লোকে তোমায় আপন করে নিতে পারে, এক পলকে ভুলে যেতে পারে। আমার সাথেও তাই হলো।  কদিনের মধ্যে দেখলাম আমার হাতে কোনো কাজ নেই। এতগুলো বছর অভিনয়ে সমর্পন করার পর অন্য কাজ খুঁজে পাওয়া খুব শক্ত মনে হতে লাগলো। বিধবা মা, ছোট ভাইকে নিয়ে আমার জগৎ। কি করে মা কে বলি যে “মা, তোমার মেয়ে একদিন খুব বড় গলা করে বলেছিলো তোমাকে আর কাজ করতে হবে না, আমিই সব দায়িত্ব নেবো এখন থেকে। কিন্তু আজ আমি আবার বেকার। আমি যে নিজের কাছে নিজেই হেরে গেলাম মা”!

দিনের পর দিন নিজের অন্ধকার ঘরে কাটাতে শুরু করলাম। আয়নায় নিজেকে দেখলে রাগে জ্বলে পুড়ে উঠতাম। নিজেকে ঘেন্না করতে শুরু করেছিলাম। মনে হতো নিশ্চই আমারই ভুল, পুরো দুনিয়া তো আমাকেই দোষারোপ করছে। নিজের পরিবারের সামনে নিজেকে দোষী মনে হতে লাগলো। তারপর যখন দেখলাম আর পারছি না, মনে মনে ভাবলাম এই ব্যর্থ, অসফল জীবনটাকেই শেষ করে দেব।

এই সময়ই একদিন হটাৎ একটা চিঠি বাড়িতে এলো। আমার এক প্রাক্তন ফ্যান আমাকে চিঠি লিখে জিজ্ঞাসা করছে যে আমি অভিনয় করছি না কোনো আর। সে নাকি এখনো আমার ছবির অপেক্ষায় আছে।  প্রথমটা খুব হাসি পেলো। তারপর মনে হলো এই একটি মেয়ে অন্তত আমার চেহারা ছাপিয়ে আমার কাজটাকে মনে রেখেছে তাহলে। ঘরে বসে ভাবতে লাগলাম। কেন আমি অন্যের চোখে নিজের কদর খোঁজার চেষ্টা করছি। কেন অন্যদের এতটা অধিকার দিয়েছি আমার ব্যক্তিগত জীবন, আমার চেহারা, আমার শরীর নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করার। যদি তারা করেও বা , কেন আমি তাদের এতটা গুরুত্ব দেব। নায়িকা সুন্দরী “size 0” হবে কেন সব সময়; চেহারার সাথে গল্প বলার,  চলচ্চিত্রের গভীরতার কি সম্পর্ক ?

আমি ঠিক করলাম আর লুকিয়ে থাকবো না। হেরে যাবো না আর। নিজের জমানো যেটুকু টাকা ছিল তা দিয়ে একটা ছোট বাজেটের সিনেমা বানাবো। তাতে থাকবে না কোনো বড় অভিনেতা, সঙ্গে যুক্ত থাকবে না কোনো বড় নাম।  যদি এখনো এই পৃথিবীতে প্রতিভার কদর থাকে তাহলে অন্তত আজকের মতো একজন অনুরাগী আমায় এসে বলবে “দিদি, খুব ভালো কাজ করেছো”!

সেই সিনেমাটি  সমগ্র বিশ্বে সম্মানিত হলো, হটাৎ একজন নামকরা পরিচালক হিসাবে আমার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লো। যে প্রোডিউসাররা আমাকে একদিন প্রত্যাখ্যান করেছিল তারা ছুটে এলো আমার দোরগোড়ায় আমার সাথে কাজ করার জন্যে। তার মাঝে কিছু “critically  acclaimed” সিনেমাতে প্রমুখ চরিত্রে  অভিনয় করার আবার সুযোগ পেলাম। আজ আমি সাফল্যের শীর্ষে। অথচ একদিন সমাজের চোখরাঙানিকে ভয় পেয়ে লুকিয়ে ছিলাম অন্ধকার ঘরে, শেষ করে ফেলতে চাইছিলাম নিজের জীবনটাকে। কত পাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যেত বলতো!

এই কথাগুলো এই  কারণেই তোমাদের বলছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো যে মানুষের চেহারা ছাপিয়ে তার মধ্যেকার প্রতিভাগুলিকে কদর দেয়া অনেক বেশি জরুরি। আজকে যারা বলছে আমাকে ছাড়া বাংলা চলচিত্রের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যেত তারাই তো একদিন ঠেলে ফেলে দিয়েছিলো আমাকে। তাই নিজের কদর তোমাদের নিজেদের করতে শিখতে হবে, নিজেকে সুস্থ রাখো কিন্তু যারা সুস্থ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তাদের কখনো অসম্মান করো না। আর কখনো হার মেনে নিয়োনা। মনে রাখবে রাতের শেষেই কিন্তু দিন থাকে। দিনের আলো দেখার আগেই রণে ভঙ্গ দেয়া কি উচিত?

আমি শ্রীজিতা আর এই আমার গল্প। আমার এই কথাগুলোর মধ্যে দিয়ে যদি আমি তোমাদের মধ্যে একজনকেও অনুপ্রেরণা দিয়ে থাকতে পারি, সেটাই হবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমার সবচেয়ে বড় পাওনা। ধন্যবাদ। “

কয়েক মুহূর্তের নিস্তব্দতাকে চীরে ফেটে পড়লো করতালি। গ্রিনরুমের দরজার আড়ালে দাড়িয়ে ফুলের তোরা নামিয়ে রেখে চোখের কোনায় জমে থাকা একবিন্দু  জল মুছে ফেললেন  শ্রীজিতা। হর্ন বাজিয়ে কলেজের গেট থেকে বেরিয়ে গেলেন তার বিদেশি গাড়ি নিয়ে, ফেলে রেখে গেলেন এক ঘর মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা, জ্বালিয়ে দিয়ে গেলেন তরুণ মনে আশা ও আত্মবিশ্বাসের দীপ।

Posted in Bengali, short shory

এক মুঠো আকাশ…..

আর্যর বিয়ের আর দিন চারেক বাকি। বাবার অবর্তমানে বিয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পড়েছে তার ভাই অর্কর উপর।  প্যারিসে নিজের রিসার্চ থেকে এক মাসের ছুটি নিয়ে কলকাতা চলে এসেছে অর্ক বেশ কিছুদিন হলো। মায়ের পক্ষে একা হাথে পুরোটা সামলানো সম্ভব হচ্ছিলো না আর । যমজ ভাইয়ের বিয়ের আয়োজনে কোনো ফাঁক রাখতে চায়না সে।  ঠিক বাবা থাকলে যেরকম আয়োজন হতো , তেমনটি করার চেষ্টা করছে  অর্ক । এত পরিশ্রম যাচ্ছে সারাদিন বলেই হয়তো আজ  সকালে উঠতে অনেকটা দেরি হয়ে গেল তার।  আজ মা আবার কল্যাণীতে মামাবাড়ি যাবে। ওদের কার্ড দিয়ে আজকের দিনটা ওখানে কাটিয়ে কাল ফিরবে। দুই ভাই আজ বাড়িতে একা। বিয়ের পর দুজন কি আদৌ এরকম সুযোগ আর পাবে একসাথে সময় কাটানোর ? তাই দুভাই  ঠিক করেছে আজ জমিয়ে আড্ডা দেবে। সারাটাদিন একসাথে কাটাবে। 

সাইড টেবিল থেকে চশমাটা  পরে ঘড়িটা দেখে নিলো অর্ক। প্রায়  ৯.৩০ টা ।  কেউ তাকে আর ডাকেনি সকালে। মায়ের বেরোনোর সময় তো হয়ে গেল প্রায়।  ফ্রেশ হয়ে নিচে নামার সময় সিঁড়ি থেকে মেঘনার গলার আওয়াজ পেলো। মেঘনা আজ এখানে? হটাৎ ? মেঘনা ওর ভাইয়ের হবু স্ত্রী। সবাই একই ক্লাসে পড়তো ওরা স্কুলে, সেই থেকে আর্য আর মেঘনার প্রেম, আজ দীর্ঘ চোদ্দ বছর পর সেই প্রেম পরিণতি পেতে চলেছে। কয়েক ধাপ সিঁড়ি দিয়ে নামতেই আরেকটা গলার আওয়াজ পেলো, খুব মিষ্টি একটা গলার আওয়াজ, খুব পরিচিত, খুব কাছের। আট বছর পর সেই আওয়াজটা শুনে হটাৎ গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো অর্কর। এই আওয়াজের সাথেই তো কত রাত্রি ফোনে গল্প করতে করতে ঘুমিয়েছে সে, কত গান গেয়েছে স্টেজে, কত ঝগড়া করেছে আর তারপর ফোনে সরি বলেছে। এই আট বছরে সে তো এই আওয়াজটাকে ভোলে নি,  কিন্তু আফসোস, আওয়াজটা যে তাকে ভুলে গিয়েছে !

 

সিঁড়ি তে সবার অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে নিজেকে শান্ত হওয়ার সময় দিলো সে। এতদিন পরে নিজের দুর্বলতাটা মেলে ধরতে সে রাজি নয় একেবারেই। বেশ কয়েক মিনিট নিজেকে শক্ত করে সিঁড়ি দিয়ে লিভিং রুমে প্রবেশ করলো সে। মা আর আর্যর সাথে সোফায় বসে গল্পে মশগুল রিয়া আর মেঘনা, ঠিক আগের মতো। কয়েক সেকেন্ড রিয়াকে ভালো করে দেখলো অর্ক, স্কুলে পড়া সেই টমবয়টা এখন সালোয়ার কামিজ, হাইলাইট করা লম্বা খোলা চুল আর ঝোলা কানের দুলের পিছনে হারিয়ে গেছে  কোথাও। এই মেয়েটা তার সাথে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে সারা স্কুল জীবন মারামারি করে এসেছে ভাবতে পারবে কেউ ? মুখশ্রীটা   কি এতটাই সুন্দর ছিল না বয়েসের সাথে সৌন্দর্যটাও বেড়ে গাছে তার ? এখনও কি আগের মতো গান গায়ে সে ? চকলেট খায়? কার্টুন ভালোবাসে ? এখনো কি ডিটেক্টিভ গল্পে ডুবে থাকে?  হাজারটা প্রশ্ন  মনে একসাথে ভীড় করে এলো অর্কর। 

 

তাকে লক্ষ্য করে হটাৎ আর্য ডেকে ওঠায় এক ঝটকায়ে বাস্তবে ফিরে এলো অর্ক। এবার এক্টিং এর পালা। স্কুল  জীবনে করা যত নাটকে যেটুকু অভিনয় শিখেছে সে, এবার তা কাজে লাগানোর সময়। অল্প হেসে এগিয়ে গিয়ে হাত বাড়ালো রিয়ার দিকে। 

– হাই, অনেক দিন পর, কেমন আছিস?

– এই তো ভালো আছি, তোর খবর বল। 

হেসে উত্তর দিলো রিয়া। অর্ক বুঝলো নিজের শ্রেষ্ঠ অভিনয় করার জন্যে উঠে পরে লেগেছে রিয়াও। মনে মনে ভাবলো ” চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড ” ।

 

মেঘনা বলে উঠলো পাশ থেকে – “দেখ, আট বছর পর খুঁজে বের করেছি রিয়াকে। কত কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে।  কিন্তু একবার যখন পেলাম পরিষ্কার জানিয়ে দিলাম, আমার সেই ছোটবেলার বেস্ট ফ্রেন্ড না এলে আমি বিয়ের পিঁড়িতে বোসবই না।  জেদ  করে নিয়ে এলাম দেখ ওকে।”

 

– “বেশ করেছিস, কেন  রে কাকীমাটার কথাও এতদিন মনে পড়লো না একবার ও ?” ; মা বললো ।

 
– “সত্যি রিয়া, কত স্মৃতি বলতো আমাদের চার জনের ! এই শহরে একসাথে বড় হলাম।  এতদিন একটা ফোন পর্যন্ত করলি না ? কেন বলতো?”
 

আর্যর  শেষ প্রশ্নটার উত্তর সবাই জানতো। অর্কর গায়ে আবার কাঁটা দিয়ে উঠলো। রিয়া অবশ্য খুব সহজ ভাবেই উত্তরটা  দিলো ;

“বাবা বোম্বে ট্রান্সফার হয়ে গেল, আমিও পুনে চলে গেলাম পড়তে। তার পর চলে গেলাম লন্ডন হাইয়ার  স্টাডিজের জন্যে । এতো ব্যস্ততার মধ্যে আর কলকাতা আসাই হলো না।  তোমাদের সবার কথা খুব মনে পড়তো।”

 

রান্নার মাসি কে রিয়া আর মেঘনার জন্যে খাবারের ব্যবস্থা করতে বলে মা রওনা হলো মামা বাড়ির দিকে। মা চলে যাওয়াতে আবার সেই চারজনের দলটা তৈরী হয়ে গেল আগের মতো। বাকি তিনজন পুরোনো দিনের স্মৃতিচারনে ব্যস্ত। রিয়া এত স্বাবাবিক, সহজ ভাবে গল্প করছে যেন আট বছরটা আট দিন মাত্র। এতটাই কি ভালো অভিনেত্রী সে না সত্যি কিছু যায় আসে না তার? এত বছরে নিশ্চই তার জীবনে কেউ এসে গেছে? তার জন্যেই নিশ্চই এখন এত সাজ, এত পরিবর্তন? হঠাৎ অভিমান, ঈর্ষায় মাথা ঝা ঝা করে উঠলো তার।  খিদে তার অনেক্ষনই উড়ে গেছে, তাও উঠে নিজের জন্যে এককাপ কফি  বানালো।  স্ট্রং কফি আর মেয়েদের দামি পারফিউমের আড়ালেও সেই পরিচিত গন্ধটা আস্তে আস্তে পুরোনো দিনে ঠেলে নিয়ে গেল তাকে, সেই ছোটবেলার স্মৃতিগুলোর কাছে যেগুলোকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এখনো আঁখরে ধরে বসে আছে সে। 

 

*****

 

চার বন্ধু প্রায় একসাথে বড় হয়েছিল তারা। একই স্কুল, তার পর একই কলেজ। কোনোদিন কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে ওরা শেখেনি। রিয়া তো ওদের সাথে মিশে নিজেকে প্ৰায়ে ছেলেই ভাবতো। ক্রিকেট খেলতো ওদের থেকেও ভালো, ক্যারাটের মারে দুই ভাইকে নাজেহাল করতো, অর্ক যখন প্রথম বাইক কিনলো, রিয়া তার আগে সেটা চালাতে শিখে ফেলেছিলো আর বাইক নিয়ে সারা কলকাতা ঘুরে বেড়াতো। তাদের কলেজ ব্যান্ডে গান গেয়ে পাড়া মাতাতো। এই সব বাইক  নিয়ে মারামারি, ফুচকায়ে লংকার পরিমাণ নিয়ে ঝগড়া ঝাটি, নতুন গান লেখার প্রচেষ্টা আর গল্পের বই আর ক্লাসনোটস আদান প্রদানের  ফাঁকে কখন যে অর্ক এই ব্যতিক্রমী মেয়েটিকে ভালোবেসে ফেলেছিলো, নিজেও বুঝতে পারেনি। একদিন কলেজের শেষে বারান্দায় বসে ফেস্টের আলোচনা করার ফাঁকে ভয় ভয় নিজের মনের কথা যখন জানায় তাকে, জীবনে প্রথম দস্যি মেয়েটার মুখে একটা লাল আভা ফুটে উঠতে  দেখেছিলো সে। গোধূলি লগ্নে ওই সলজ্জ হাসিটা আজও  মনে দাগ কেটে আছে অর্কর।  

 

তার পর তিন বছর কেটেছিল স্বপ্নের মতো, রাতের পর রাত  ফোন, গল্পের বইয়ের পাতার আড়ালে চিঠি ও আনাড়ি হাথের কবিতা, কলেজের ক্লাস কেটে লুকিয়ে সিনেমা, দূর্গা পুজোর অঞ্জলীর ফাঁকে আড়চোখে একে অপরকে দেখে মুচকি হাসা, সরস্বতী পুজোয় রিয়াদের ফ্ল্যাটের বিশাল প্রতিমা রাত জেগে সাজানো, বইমেলায় পাশাপাশি বসে বেনফিশের চপ খাওয়া, রিয়ার প্রথম বানানো পাথরের মতো শক্ত কেকটাকে খেয়ে প্রশংসা করা, বার্থডে আর ভ্যালেন্টাইন্স ডে তে স্পেশাল গিফটের খোঁজে রাতকে দিন করা…..সবই এখন স্মৃতি।

 

এই স্পষ্ট বক্তা, মুক্ত মনের মেয়েটাকে অর্ক ভালোবাসতে পেরেছিলো ঠিকই, কিন্তু নিজের কাছে ধরে রাখতে পারেনি। হয়তো ধরে রাখার প্রচেষ্টাটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল। কোথাও একটা রিয়ার স্বপ্নগুলোর মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে, তাই হয়তো তার থেকে দূরে রিয়ার পুনে পড়তে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা মেনে নিতে পারেনি অর্ক । আজন্মের সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরতে শুরু করলো। দূরত্ব, অহংকার, আত্মাভিমান যেন খুঁড়ে খুঁড়ে খেতে লাগলো সম্পর্কটাকে।  একদিন ধস নামলো এবং তার গতিতে ছিটকে আলাদা হয়ে গেল রিয়া সবার থেকে। কোনোদিন পরস্পরকে খোঁজার চেষ্টাও করেনি তারা। বরং নিজেদের আরো দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে নিজের দেশ, চেনা শহর, পরিচিত  মানুষগুলোর থেকেও দূরে চলে গেছে  তারা। আজ বিদেশের মাটিতে দুজনে আবার  করে গড়ে তুলেছে তাদের জগৎ – নতুন কিন্তু একটা অসম্পূর্ণ জগৎ। 

 
 *****
 

ঘন্টা দেড়েক আড্ডা দেয়ার পর মেঘনা জানালো তার এবার বাড়ি ফেরা উচিত। যোধপুর পার্ক এর পুরোনো ফ্ল্যাটটাতে রিয়া এখন এসে উঠেছে কদিনের জন্যে। কিছুটা জোর করেই আর্য অর্ককে পাঠালো গাড়িতে রিয়াকে ছেড়ে আসতে।  সারা দুনিয়া ঘোরাঘুরি করা এই মেয়েটি যে ট্যাক্সি করে  দিনেরবেলা ঠিক বাড়ি পৌঁছে যাবে, সেটা জানতো অর্ক। কিন্তু যখন দেখলো রিয়াও বিশেষ প্রতিবাদ করছে না তার থেকে লিফ্ট নিতে, তখন সে রাজি হয়ে গেল। নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ স্টিয়ারিং হুইলের  দিকে উপনিবিষ্ট করলো অর্ক। গাড়ির মধ্যেকার দম বন্ধ করা নিস্তব্ধতা দূর করতে রেডিওটা চালিয়ে  দিলো সে। অনুপম রায়ের  সদ্য রিলিজ হওয়া একটি গান  ভেসে এলো –

   

“ফুটকড়াই, অ্যান্টেনা, হাফ চিঠি, হাফ প্যাডেল

আয়না আর জলপরীর গল্প বল

বন্ধু চল…

সাপ লুডো, চিত্রহার, লোডশেডিং, শুকতারা

পাঁচসিকের দুঃখদের গল্প বল

বন্ধু চল

বন্ধু চল… বলটা লে.

রাখবো হাত তোর কাঁধে

গল্পেরা এই ঘাসে 

তোর টিমে তোর পাশে” 

         

গানটা শুনে কিছুটা আনমনা হয়ে গিয়েছিলো অর্ক। হঠাৎ রিয়ার কথায় যেন এক যুগের নিস্তব্ধতার বাঁধ ভাঙলো।

– “তোর কি বাড়ি ফেরার তাড়া  আছে?” 

 

– “না, কেন বলতো? ” ; খুব সাবধানে জিজ্ঞাসা করলো অর্ক।

 

– “কলকাতাটা একটু ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করছে।”

 

অল্প হেসে রিয়ার বাড়ির দিক থেকে গাড়িটা ঘুরিয়ে দিলো অর্ক।  অনেক দিন পর চেনা বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে প্রিন্সেপ ঘাটের হাওয়া খেলো, সেন্ট পলসের নিস্তব্দতায় দুজন মনে মনে প্রার্থনা করলো যেন এই দিনটা শেষ না হয় কোনোদিনো,  ভিক্টোরিয়ার বাইরে গল্প করতে করতে  বিট নুন দিয়ে বাদাম ভাজা খেলো,  বইপাড়া ঘুরে তাদের সেই ছোটবেলার প্রিয় লেখকদের সেকেন্ড হ্যান্ড ডিটেক্টিভ নভেল কিনলো, গড়িয়াহাটের ভীড় ঠেলে প্রচন্ড দাম দর করে রিয়া কানের দুল কিনলো এবং পড়ন্ত বিকেলে যখন প্রচন্ড খিদে পেলো, তখন পার্ক স্ট্রিটের সেই সবচেয়ে প্রিয় রেস্তোরাটার শীতল আলো আঁধারিতে গিয়ে বসলো দুজনে।  

 

চাইনিজ খেতে খেতে কথার ছলে দুজন দুজনকে জমে থাকা নানান প্রশ্ন করতে লাগলো।  শেষ পাতে যখন বিশাল আইস ক্রিমটাতে চামচ ডুবালো রিয়া, তার চোখে মুখে ফুটে ওঠা আনন্দ দেখে অর্ক বুঝলো বাইরের খোলসটার ভিতরে লুকিয়ে থাকা  মেয়েটি একফোঁটাও বদলায় নি। সাথে সাথে কোথাও একটা সেই সুপ্ত ইচ্ছেগুলো আবার মাথা চারা দিয়ে উঠতে শুরু করলো তার মনে।

দিনের শেষে যখন রিয়াকে তার বাড়ি নামিয়ে দিলো অর্ক , গাড়ি থেকে নামার আগে হটাৎ বলে উঠলো রিয়া ” জানিস অর্ক,  সত্যি কথা বলতে এই দিনটার লোভেই কলকাতা ফিরলাম এতদিন পরে। ভাবতে পারিনি এতো কিছুর পর আমার এই অন্যায় আব্দারটা  তুই রাখবি। থ্যাংক ইউ। “

কি উত্তর দেবে ভেবে পায়নি অর্ক। মাথা নিচু করে একটু হেসেছিলো মাত্র । 

 

*****

 

শীতের রাতে ডিনার করে দুই ভাই এক লেপের ভিতর ঢুকে অনেক রাত অব্ধি গল্প করলো সেইদিন। আর্য আর মেঘনা যে আজ ইচ্ছে করেই রিয়াকে ওদের বাড়ি নিয়ে এসেছিলো তা বুঝতে বাকি নেই অর্কর। অনেক রাতে যখন আর্য ঘুমিয়ে পড়লো, ল্যাপটপটা খুলে এই প্রথম ফেসবুকে রিয়াকে খুঁজলো অর্ক। অনেক সাহস সঞ্চয় করে একটা মেসেজ পাঠালো – “হাই” । যখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই উত্তরে আরেকটা “হাই” এলো, অর্ক বুঝলো রাতের ঘুম তার একার ওড়েনি। সেই রাতে বহুযুগ পর মেসেজ আদান প্রদানের মাধ্যমে কথা বলতে বলতে আবার ভোর করলো দুজন। ল্যাপটপ রেখে একটা নিবিড় ভালোলাগার অনুভূতি নিয়ে শুয়ে পড়ার আগে কৃতজ্ঞ দৃষ্টিতে একবার দেখে নিলো ঘুমে অচৈতন্য ভাইটার মুখটা । ছোটোখাটো কিছু অমিল কে উপেক্ষা করলে ঠিক যেন তার নিজের প্রতিচ্ছবি। তাই হয়তো ওর এতদিনের না বলা কথা, একাকীত্ব আর চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাসগুলোকে এত সহজে বুঝে ফেলেছিল আর্য। গাড়ির থেকে নামার আগে রিয়ার বলা কথাটা আবার মনে পড়লো তার। বয়েস এবং অভিজ্ঞতার সাথে অন্তত এইটুকু বুঝেছিলো সে, আকাশের মেঘের মতো হালকা, বাতাসের মতো মুক্ত মনের এই মেয়েটিকে পেতে গেলে তাকে মুষ্টি বদ্ধ করে রাখার প্রচেষ্টা বৃথা, তাকেও মেঘেদের মতো আর বাতাসের  মতো মুক্ত হতে হবে। ঘুমিয়ে পড়ার আগে জানালার পর্দা সরিয়ে ভোরের আকাশের রক্তিম আভায়ে ভেসে যাওয়া মেঘগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে মনে শপথ করলো অর্ক, বহু বছরের অপেক্ষা আর সাধনার পর পাওয়া এই ভালোলাগার অনুভূতিটিকে এবার  আর কোনোদিন  ও হারাতে দেবে না সে। 

*****

Posted in English

For the confused, modern women…take a chill pill !!!!!

On the outset… let me start with a disclaimer-

“This article is not directed to any particular person. Any resemblance to actual persons, living or dead, or actual events is purely coincidental.”

However, this article is not a work of fiction. Rather its my dedication to that confused, modern woman who seems to have lost herself in an effort to keep up with the so called notion of “an ideal women”.

Somehow I believe life was a lot easier for women belonging to the previous generations. They seemed more comfortable in their own skin, satisfied with who they were. I do not remember my Grandma constantly trying to portray herself as a “know-it-all”, as an epitome of grace, beauty and success or as a flag bearer of  feminism. She was feminist in her own subtle way, graceful and beautiful without overstating it and a strong backbone for the future generations in an offhand, easy manner without going over the top with any of her responsibilities.

But with time, women appear to be losing the fine balance. It’s almost like we are in a constant race to fit into a mould that has been created for us…a much larger than life mould ! We take offence at every criticism and try to add colours of feminism to it. We scream for rights to make our own choices and then we ourselves put other women down for their choices.  In our fight for feminism, we have forgotten the true meaning of the word. Why try to prove we are superior to men or, for that matter, other women? Lets just all try to be humans first !!!

So my lovelies, do not, at any cost, let others dictate your life choices. Its your life and you have the right to live it the way you want to. Unfortunately, for a modern woman, even before a man, comes the threat of being judged by another woman.  So what if she decided to get married early in her life…..if her dream is to become a mum rather than a successful CEO….if she doesn’t want to get married or have kids…. if she decided to quit her job at the peak of her career…..if she rides a bike or is too scared to drive….if she doesn’t like to read at all or reads too much….if she has put on a bit of weight but is beautiful none-the less or if she wears salwars, cooks well and is religious but not a “behenji”….. Let’s just understand that at the end of the day all that matters is being happy.

Fashion-lady-illustrator-vector-material-61199

I see women around me struggling with the two masks : who they really are and who they want to portray themselves as! It is okay when you go weak in your knees for a man and it is okay if you decide to accept a gift or let your man pay when you are on a date for a change! Everyone knows you can open your own car door or walk without taking someone’s arm, but it is okay to sometimes enjoy the chivalry of a man. He is not trying to put you beneath him but this is just his way of showing how much he values you!

So in an effort to fit into the mould, don’t lose sight of the finer things in life, genuine emotions and important people. While I myself believe that every woman should be independent, I must learn to respect the choices of a woman whose ideas and priorities differ from mine! A strong feminist as I am, it saddens me when I see women with contorted notions about feminism, viewing the world with glasses tinted with their misguided ideologies. Being strong, beautiful and independent  doesn’t mean putting others down but being able to look at the world without being judgmental or blinded by misconceptions. A true feminist understands that every women has the right to make her own choices and live life on her own terms. 

So to all my lovely ladies, take a chill pill. Sit back and relax a bit. Take a break, enjoy life and widen your vision. You just have one life and you are allowed to live it the way you want to. Let us put an end to judging others and strangulating their free will in the name of progressiveness and modernization. Let us learn to respect each other as equals first and for once, just leave it at that  !!!

Posted in English, Ph. D. series

Piled higher and Deeper…an average day of a Ph.D student in lab…

The chirping of the birds was gradually replacing the silence of the night. I had been fast asleep in my one bedroom apartment when I suddenly woke up with a start; “Oh God, I think I forgot to add Enzyme to my reaction mixture last night !!!!” (Mind you, it has taken me 2 long weeks of extensive planning and reading and hard work to get to the the last step of my reaction….which I now believe I have ruined). I look at the clock, it is 5.30 am. My bed looks like a scientific battle ground with research papers, text books and notes strewn about while the laptop is still switched on. It appears I have long replaced pillows and soft toys with thick fat books which I now hug while I am sleeping. As a Ph. D student I obviously cannot afford an AC, so I open the windows to allow nature to take care of my palpitation and profuse sweating. Gradually, as I begin to recover from my near heart attack, I feel, maybe I did add all the reagents as per protocol !

 

“Wait a second, Did I ?”….”Noooo I didn’t”…..”I should have written it all down”….”On second thoughts I am convinced I did everything properly”…..” Hold on! I don’t even remember taking that reagent out of  the lab refrigerator…shit, I think I just ruined it”….”Oh God, I am getting a headache” 

 

And hence begins my day…. like every other day !!!

 

When you wake up with a sour mood and a terrible headache, and you are living miles away from you parents, breakfast and exercise always take a backseat. I groggily make myself a cup of tea, rummage through my fridge for anything edible only to realize I haven’t had time to go grocery shopping for two weeks, and finally decide to eat a few biscuits and head off to lab. In spite of waking up at 5.30 am, I still manage to get late for lab, so I decide to sneak up the back stairs to avoid my mentor. But as fate would have it, he had decided to take a stroll down the dingy backstairs today of all days and my headache increased at par with the crescendo of his voice when we met in the dark alleys !!! So after a good 10 mins lecture on punctuality, I reach my lab and get to work, only to realize that the PCR machine that I had booked, is already in use. As I am gearing up for a showdown with my annoying lab mate, my boss calls me to his chamber to give me an amazing news : my paper has again been rejected by what seems like the hundredth journal !!! 

35c4a4c4ebe04fc146c6ad93b49fe87c

So I already have a ruined experiment (which will now take several weeks to repeat, and even longer to explain to my boss), two rounds of condescending lectures, a showdown with a lab mate and a rejected paper in hand….and its just 10.00 am ! But the good thing about working in labs is having seniors who have somehow survived through it all. So after a good motivational speech from a senior and a cup of strong coffee, I decide to face the struggles of life, come what may !!!

 
I manage to find another PCR machine in a neighboring lab and decide to continue with my ruined experiment rather than giving up. I do not know how long I had been working but a very hungry and angry stomach lets me know that it has had it all !!! I coax my growling stomach not to revolt for another half an hour so that I have just enough time to finish off the work at hand. When an elated me finally reaches the canteen after half an hour, I realize I am well past lunch time and the canteen is nearly empty. So I head out of my Institution in search of some street food and I return back to my lab with a severe acidity which has now replaced the headache !!! 
 

A pleasant surprise however greets me in lab. One of our seniors who had been persuing post-doctoral research abroad has come to visit us after nearly 4 years. We gather around her to hear her experience as we devour the Swiss chocolates she has got for us. While the first few years abroad had been fun, she has now completed her work there with a handful of publications but still has no job or work at hand. I soon realized the conversation along with the idea of a bleak future was inviting back my headache and the chocolates weren’t helping my digestive system either. I needed a distraction ! 

 

I texted my best friend, who of course works at the IT sector, to plan out a meeting post work, sometime around 6 pm. A “girlie” get together is just what I need to lift up my spirits. Life suddenly found a purpose as I felt I had something to look forward to and pull me through the rest of the day! It was only around 5.30 pm that I found out  through our network of secret spies that my boss was planning to stay back in lab till 8 pm. Devastated, I called up my bestie to inform her that I couldn’t meet her, which of course ended up in me being face to face with the telephonic wrath of the girl whom I have stood up for the seventh time in  the past one month, thanks to my “research”. I myself  judge her for still thinking of me as her friend ! But then social life is, of course, a luxury for a Ph. D. student.

 

My ruined experiment in the meantime yielded a result which I couldn’t really decipher. It was neither what it should have been had it worked or had it failed and appeared to be somewhere in the middle. It was 6 pm and by that time I had reached a point where I had become stoic. Nothing really mattered to me… nothing really bothered me ! I realized I had to cook up some explanation before my boss asked me about the experiment or about what to do about my paper, but I really didn’t have the energy to think anymore. After another round of tea, I sat down at the computer in search of the only joy in a research student’s life….Conferences !!!!

PhDComics

 

After waiting for eternity trying to appear to be working while I waited for my boss to leave, I finally manage to get out of lab around 8.45 pm. I buy a family packet of chocolate, gorge on some fast food to satiate the ever hungry stomach, pop-up an antacid and head home. I look at the giggling young girls on the metro, all dolled up laughing or joking with boyfriends or a group of friends and felt jealousy swell up inside me. I reach home to the empty flat, gorge on the entire bar of chocolate and collapse on couch nauseated and tired.  

 

After managing to put together something for dinner, my first proper meal of the day, I finally go to bed. Tonight I can sleep well. My experiment has already been ruined, my paper has been rejected and my future is bleak….so overall, nothing worse can happen ! I can sleep tonight without the fear of waking up in the wee of the morning, all sweaty and petrified. I  fall asleep while watching my daily dose of “F.R.I.E.N.D.S”, a sitcom I owe my sanity to…………….ZZZzzzzzzzzz !!!

It’s 5.30 am. I am dreaming that I forgot to switch off the heater in our lab and our entire lab is on fire !!! My notes and results have all turned into ash and I am being literally kicked out of my institution for ruining everything. I wake up with a start again, all sweaty with a searing headache !!!

Ahhh !!! Hence starts another brand new day !!!

236243-19